নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট মাদক স্পট গড়ে ওঠার পেছনে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে গুদারাঘাট এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, এসব মাদক স্পট থেকে নিয়মিতভাবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে মাসোয়ারা পৌঁছে দেওয়া হয়। আর সেই মাসোয়ারা প্রদান করা হলে মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে রেহাই পেয়ে থাকেন। তবে নির্ধারিত অর্থ না দিলে তাদের ওপর হামলা, হয়রানি কিংবা ‘মব’ সৃষ্টি করে থানায় সোপর্দ করার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, শাহ আলী এলাকার কিছু বিএনপি ও যুবদল-সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী এসব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, বিএনপি নেতা জাকির হোসেন, ইসলাম গাজী, বাবু ও ফারুক মোল্লাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাদক স্পট থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানের নামে উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে থানায় সোপর্দ করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা জাকিরের স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সাংবাদিকদের হাতে একটি কল রেকর্ড এবং অর্থ লেনদেনের একটি ভিডিও রয়েছে । অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা যায় একজন ব্যক্তি একটি কক্ষে বসে এক মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে তাকে জানানোর আশ্বাস দিচ্ছেন। অপরদিকে ব্যবসায়ীকে বলতে শোনা যায়, টাকা নিতে যেন অন্য কেউ না আসে।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এলাকায় শাহ আলী থানা পুলিশের মাদকবিরোধী তৎপরতা দৃশ্যমান থাকলেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। ফলে মাদক ব্যবসা ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু মাদক ব্যবসায়ীদের নয়, অর্থের বিনিময়ে যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন কিংবা নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মাদক সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তারা শাহ আলী থানা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।