চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সরকারি ওয়াকিটকি সদৃশ যোগাযোগ যন্ত্র হাতে এক রাজনৈতিক কর্মীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নগরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে রায়হান আলম নামে এক ব্যক্তিকে সরকারি ওয়াকিটকি হাতে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। একই অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যেই আলোচনায় এসেছে খুলশী থানার একটি আলোচিত মামলার নথি, যেখানে রায়হান নামের একজনকে আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ রাতে খুলশী থানাধীন জিইসি মোড় এবং কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় সংঘটিত একটি সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পরদিন খুলশী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে কয়েকজনকে গুরুতর আহত করে। ওই মামলায় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে রায়হান নামের একজনকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় আহত জিহাদুর রহমান ইউনুছকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র ও গুলিবর্ষণ করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে হাসপাতালের মৃত্যুসনদে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট নথিতে দেখা যায়, ভিকটিমের মৃত্যুর পর তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযুক্ত করার আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিমের মৃত্যুর কারণে হত্যা ধারায় তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রায়হান আলমের হাতে সরকারি ওয়াকিটকি সদৃশ যন্ত্র দেখা যাওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত এক সাংবাদিকের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয় এবং তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ওঠে।
নগরীর বিভিন্ন মহলের প্রশ্ন, একজন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্যক্তি কীভাবে সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যন্ত্র বহন করছেন এবং এর বৈধতা কী। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিকে কেন্দ্র করে সরকারি সরঞ্জাম ব্যবহারের নীতিমালা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারি সরঞ্জাম ব্যবহারের অভিযোগ এবং সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ,উভয় বিষয়ই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।