
জাহেদুল ইসলাম রতন,লালমনিরহাট: আগামী ১৩ জুন, শনিবার, লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এদিন শুধু সভাপতি পদে ভোট হবে। তবে এবার সভাপতি পদে দু’জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যান্য পদে প্রার্থীরা ইতোমধ্যে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
উক্ত নির্বাচনকে ঘিরে জেলার ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের মাঝে চলছে সরগরম আলোচনা। সভাপতি পদে লড়ছেন জেলার পরিচিত মুখ, সফল শিল্পোদ্যোক্তা ও সমাজসেবক মো. মোকছেদুর রহমান। “ব্যবসায়ীদের ঐক্য, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের লক্ষ্যে পরিবর্তনই আমাদের অঙ্গীকার” এই স্লোগান নিয়ে তিনি গোশালা রোড থেকে তিস্তা-বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন।
দৈনিক প্রেস বিডি লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’-নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মোকছেদুর রহমান বলেন, চেম্বার মানে শুধু সভা-সেমিনার না। চেম্বার মানে ব্যবসায়ীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো। বিগত দিনে অনেক ব্যবসায়ী হয়রানির শিকার হয়েছেন, কিন্তু চেম্বার থেকে কাঙ্খিত সহায়তা পাননি। আমি সভাপতি নির্বাচিত হলে চেম্বারে ‘ব্যবসায়ী সহায়তা ডেস্ক’ চালু করব। যে কোনো হয়রানি বা আইনি জটিলতায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইতিমধ্যে লালমনিরহাট সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি ১৩ দফা দাবি সংবলিত প্রচারপত্র দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর কাছে হস্তান্তর করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তিস্তা বাঁচাও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, ইপিজেড/স্পেশাল ইকোনোমিক জোন স্থাপন, লালমনিরহাট বিমানবন্দর চালু, মোগলহাট স্থলবন্দর চালু, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক সরলীকরণ, ব্যাংক থেকে স্বল্প সুদে ঋণ, শহরে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি ও সাইনবোর্ড কর বাতিল। তরুণ উদ্যোক্তা গড়ার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মোকছেদুর রহমান বলেন, আমাদের ছেলেরা চাকরির জন্য হাহাকার করছে। অথচ এখানেই ব্যবসার অপার সম্ভাবনা,”। তার পরিকল্পনা প্রতি মাসে ‘উদ্যোক্তা ক্যাম্প’, ব্যাংক লোন-ট্রেড লাইসেন্স-মার্কেটিং শেখানো, ক্ষুদ্র স্টার্টআপ ফান্ড গঠন। “তরুণরা চাকরি খুঁজবে না, চাকরি দেবে।”
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির কারিগর মোকছেদুর রহমান আরো বলেন, কৃষক বাঁচলে ব্যবসা বাঁচবে, “লালমনিরহাট কৃষির জেলা। আমার দু’টি কোল্ড স্টোরেজ আছে, মৌসুমে কৃষক কিভাবে দাম না পেয়ে কষ্ট করে। চেম্বার থেকে সরকারের কাছে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের জোর দাবি জানাব।”
তিনি তিস্তা হিমাগার লিমিটেড ও কৃষক হিমাগার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক হিসেবে আলু-ভুট্টা সংরক্ষণ নীতিতে জাতীয় পর্যায়ে পরামর্শ দেন। তার উদ্যোগে শত শত কৃষক মৌসুমের পরও ন্যায্যদামে ফসল বিক্রি করছেন।
সাংগঠনিকভাবে মোকছেদুর রহমান সম্মিলিত ব্যবসায়ী সমিতি, কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতি, পৌর নিউ মার্কেট ও গোশালা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি। পূর্বে চেম্বারের সহ-সভাপতি ও উত্তরণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাপলা এন্টারপ্রাইজ, ফাইভ স্টার গার্মেন্টস, শাপলা টেইলার্স। তাছাড়াও ধান-চাল-পাট-ভুট্টা ব্যবসায়ী ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার হিসেবে উত্তরবঙ্গে সুনাম আছে। মানবসেবায় মোকছেদুর রহমান রেড ক্রিসেন্ট ও রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য। রোটারী ক্লাবের মাধ্যমে বন্যা, করোনা ও শীতবস্ত্র বিতরণে মাঠে কাজ করেছেন।
উত্তরণ সুপার মার্কেটের নুরজ্জামান আহমেদ বলেন, “মোকছেদ ভাই মাঠের মানুষ। রাত ১২টায় দোকানে আগুন লাগলেও ছুটে আসেন। চেম্বারে এমন মানুষই দরকার।”
গোশালা রোডের রুহুল আমিন বলেন, “চেম্বারকে ব্যবসাবান্ধব করতে অভিজ্ঞ ও সৎ নেতৃত্ব দরকার। ১৩ জুনের নির্বাচনে মোকছেদুর রহমান এগিয়ে আছেন।”
লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’-নির্বাচনে সভাপতি পদপ্রার্থী মো. মোকছেদুর রহমান ব্যবসায়ীদের দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, “লালমনিরহাট সীমান্তবর্তী সম্ভাবনাময় জেলা। আমাকে ভোটারা ভোট দিয়ে সভাপতি নির্বাচিত করলে ১৩ দফা বাস্তবায়নসহ তিস্তা থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”