মোঃ আলমগীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: থানায় সেবা নিতে এসে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীর নেতৃত্বে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে গত কয়েক মাসে রূপগঞ্জ,
আড়াইহাজার, ফতুল্লা ও বন্দর থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বদলি, প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন, সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের কাছেও এসপির এই উদ্যোগ ইতিবাচকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ জুন রাতে চাঁদাবাজি ও সেবাপ্রার্থীদের হয়রানির অভিযোগে আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাসনাঈন আহমেদকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
এর আগে ৭ জুন দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বন্দর থানার এসআই মাসুদ রানাকে প্রত্যাহার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এক হত্যা মামলার ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে মামলা গ্রহণের সময় ঘুষ দাবি করা হয়েছিল।
এ ছাড়া ৮ জুন বন্দর থানার আরও তিন এসআই—মনির হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও ফারুককে বদলি করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এখনো প্রমাণিত হয়নি।
গত ৬ মে ফতুল্লায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ পাঁচ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ফতুল্লা মডেল থানার ছয় পুলিশ সদস্যকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন এসআই আবুল বাশার, এএসআই আশিক এবং চারজন কনস্টেবল।
এর আগে গত ১৫ মার্চ মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রূপগঞ্জ থানার তিন এসআই—হুমায়ুন আহমেদ, আহসানউল্লাহ ও নাদিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে এসপি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, কিছু বদলি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হলেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, জনগণকে মানসম্মত সেবা প্রদান এবং পুলিশের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।
সেবাপ্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, থানায় এসে কেউ হয়রানির শিকার হলে সরাসরি অভিযোগ জানাতে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভালো কাজের স্বীকৃতি যেমন দেওয়া হবে, তেমনি অনিয়মের জন্য শাস্তিও নিশ্চিত করা হবে।
জেলা পুলিশ আরও জানিয়েছে, মাদক, বাল্যবিবাহ, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ চলছে। ভবিষ্যতেও সেবার মান নিশ্চিত করতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মতে, পুলিশের ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের জবাবদিহিমূলক উদ্যোগ সময়োপযোগী প্রয়োজন।