তপু রায়হান রাব্বি ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধিঃ প্রায় দুই মাস আগে ময়মনসিংহের ফুলপুরের গৃহবধূ সিম্পা আক্তার (২২)কে হত্যা করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এজাহার ভুক্ত আসামি স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেফতার হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন স্বামী মোঃ মফিজুল ইসলাম (২৭), শ্বশুর আব্দুল হাই (৫৫) ও ফজিলা খাতুন (৫০) উভয় ফুলপুর থানার ছনধরার লাউয়ারী (কান্দাপাড়া) গ্রামের।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল হাসান ও ফুলপুরের সার্কেলে এএসপি রাকিবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় ফুলপুর থানার ওসি ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে এসআই(নিঃ) মোঃ আজিজুর রহমান থানার একটি পুলিশের টিম গত ৫ জুলাই রবিবার সিপিসি-৩, র্যাব-৯, সিলেট এর সাথে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানাধীন বাধাঘাট এলাকা হতে মোঃ মফিজুল ইসলাম (২৭) ও আব্দুল হাই (৫৫)দ্বয়কে গ্রেফতার করে (৬ জুলাই) সোমবার ভোর সকালে ফুলপুর থানায় নিয়ে আসেন।
মামলা সুত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে সিম্পার সঙ্গে মফিজুল ইসলামের বিয়ে হয়। গত ৯ মে রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিম্পাকে মারধর করে স্বামী মফিজুল, পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আবারও বিরোধের একপর্যায়ে সিম্পাকে বাঁশ, খুঁটি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তার মৃত্যু হলে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার উদ্দেশ্যে মরদেহ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তার লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভিকটিমের পিতা মোঃ নায়েব আলী (৫৭) বাদী হয়ে উল্লেখিত আসামীদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করিলে ফুলপুর মামলা নং-১১, তারিখ-১১/০৫/২০২৬, ধারা-৩০২ পেনাল কোড-১৮৬০ রুজু করা হয়।মামলা রুজুর পর আসামীগণ দীর্ঘদিন পলাতক থাকে।
ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, সিম্পা হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় কে আইনানুগ সকল কাজ শেষে সোমবার দুপুরে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে ।