জয়নাল আবেদীন, পেকুয়া: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বন্যাকবলিত মগনামা ও উজানটিয়া ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজার স্লুইসগেট এলাকা পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বন্যা পরিস্থিতি, জলাবদ্ধতা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে তিনি বন্যার্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণেও অংশ নেন।
পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা, সাম্প্রতিক বন্যায় কৃষিজমি, মাছ ও চিংড়ি ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট এবং পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা অবৈধ বাঁধ ও জালের বিষয়গুলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
বিষয়গুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরীর নেতৃত্বে রুপাখালসহ বিভিন্ন খালে নির্মিত অবৈধ বাঁধ ও পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা অবৈধ জাল অপসারণ করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সোনালী বাজার স্লুইসগেট এবং লায়ন মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনের স্লুইসগেটের কাজ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া চেপ্টাখালী, শরৎঘোনা ও দক্ষিণ মগনামা স্লুইসগেট নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে মগনামা ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন কাঁচা রাস্তা দ্রুত সংস্কারের দাবি জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী শুষ্ক মৌসুমে এইচবিবি ও পর্যায়ক্রমে পাকা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে চেয়ারম্যান ইউনুচ চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “মাননীয় মন্ত্রীর আন্তরিকতা, সরেজমিন পরিদর্শন এবং তাৎক্ষণিক নির্দেশনা মগনামাবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর সহযোগিতায় মগনামার জলাবদ্ধতা নিরসন, স্লুইসগেট নির্মাণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন দ্রুত বাস্তবায়িত হবে।