পটিয়া( চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর কচুয়াই ইউনিয়নে উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর বাবর ফারুকী। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, কচুয়াই ইউনিয়নকে একটি মর্যাদাশীল, আধুনিক ও ব্যতিক্রমধর্মী উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
দীর্ঘদিন ধরে সমাজসেবা, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত বাবর ফারুকী পটিয়া উপজেলার ১৬ নম্বর কচুয়াই ইউনিয়নের ফারুকীপাড়ার কৃতি সন্তান। তিনি বিশিষ্ট সমাজসেবক এস. আর. ফারুকীর সুযোগ্য সন্তান। পারিবারিকভাবে জনসেবার আদর্শে বেড়ে ওঠা বাবর ফারুকী বলেন, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই তাঁকে জনকল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
প্রশ্ন: আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
বাবর ফারুকী: আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধিত্ব মানে ক্ষমতা নয়, বরং মানুষের সেবা করার একটি দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের লক্ষ্য নিয়েই আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের চিন্তাভাবনা করছি। জনগণ যদি আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে কচুয়াই ইউনিয়নকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নবান্ধব ইউনিয়নে পরিণত করব।
প্রশ্ন: কচুয়াই ইউনিয়নের উন্নয়নে আপনার অগ্রাধিকার কী হবে?
বাবর ফারুকী: সড়ক, সেতু, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানির সুবিধা, আধুনিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হবে। ইউনিয়নের প্রতিটি নাগরিক যেন সরকারি সেবা সহজে পান, সে বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশ্ন: সমাজসেবাকে কীভাবে এগিয়ে নিতে চান? বাবর ফারুকী: সমাজসেবা আমার কাছে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি একটি মানবিক দায়িত্ব। অসহায়, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, বিধবা, প্রবীণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সবসময় থাকার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষা সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। প্রশ্ন: তরুণদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?বাবর ফারুকী: একটি উন্নত সমাজ গঠনে তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে কাজ করব। মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ থেকে তরুণদের দূরে রাখতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
প্রশ্ন: দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে কী করবেন? বাবর ফারুকী: ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বৈষম্যের সুযোগ থাকবে না। জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
প্রশ্ন: কচুয়াইবাসীর উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?বাবর ফারুকী: কচুয়াই ইউনিয়ন আমাদের সবার। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, তাহলে এই ইউনিয়নকে উপজেলার অন্যতম মর্যাদাশীল ও উন্নয়নের মডেল এলাকায় পরিণত করা সম্ভব। আমি জনগণের সহযোগিতা, পরামর্শ ও দোয়া কামনা করছি। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন পেলে সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে নিজেকে সর্বোচ্চভাবে নিয়োজিত রাখব।
প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাবর ফারুকী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে এলাকায় পরিচিতি অর্জন করেছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা অনেকেই উল্লেখ করেন। তবে তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না এবং জনগণ তাঁকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন, সেটি শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও ভোটারদের রায়ের মাধ্যমে।
কচুয়াই ইউনিয়নের উন্নয়ন, সুশাসন ও জনসেবাকে সামনে রেখে বাবর ফারুকীর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।